
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক শীর্ষ অপরাধ
ঢাকা, ২৯ মে ২০২৬:
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও ওয়ার্ডের গুরুতর নির্মাণ ত্রুটির তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আগামীকাল শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের ২য় তলার পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডটিতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের কোনও সুব্যবস্থা ছিল না। সেখানে মারাত্মক অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবহেলা এবং ওয়ার্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে।
গত ২৭ মে (বুধবার) ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১ থেকে ৩ দিন বয়সী ৬টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল জুড়ে উত্তেজনা ও স্বজনদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত শিশুদের পরিবারের অভিযোগ, ওয়ার্ডের এসি (এয়ার কন্ডিশনার) থেকে ক্ষতিকারক গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। পুরো ওয়ার্ডে তীব্র ঝাঁজালো ও দমবন্ধ করা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো কর্তব্যরতদের চরম অবহেলার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে একের পর এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে এবং তারা মারা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে।
৬ নবজাতকের এমন রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে এক ভুক্তভোগী নবজাতকের পিতা বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল শনিবার তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর, সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মন্তব্য করুন