
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কয়লা সরবরাহ বাড়ায় ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথে থাকলেও হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কয়লা সংকটের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে উৎপাদনও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে দিবাগত রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন নেমে আসে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বয়লার ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
এদিকে দেশে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্রও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না।
পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সংকট রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমেছে।
পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে, ফলে লোডশেডিংও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা ৩টার দিকে। ওই সময় ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে বলে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি সংকট, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে আদানির কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন