উজিরপুর || বরিশাল
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের সাকরাল এলাকায় এক ধর্মীয় শিক্ষককে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াহিদুজ্জামান স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এবং জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কয়েকদিন আগে এক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয়ে ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন এলাকায় নিয়ে মারধর শুরু করে। প্রথমে কাঠের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চিৎকার করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আরেকটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীকেও ঘটনাস্থলে ডেকে এনে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওয়াহিদুজ্জামানকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। একজন শিক্ষক ও ইমামের সঙ্গে এমন আচরণ খুবই ন্যাক্কারজনক এবং এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানা এর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

