নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও-পুবাইল এলাকায় “এম্পায়ার গ্রুপ” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্প পরিচালনা, কৃষিজমি দখল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি আবাসন ব্যবসার নামে প্লট বিক্রির ফাঁদ তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষিজমি লিজ নিয়ে সেখানে বিশাল আকারের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে “স্বপ্নের আবাসন প্রকল্প” নামে আকর্ষণীয় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অথচ প্রকল্পটির গাজীপুর সিটি করপোরেশন, রাজউক কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারপরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্লট বিক্রির প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এম্পায়ার গ্রুপ মূলত সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে অবৈধভাবে জমি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই না বুঝে সেখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতা ও প্রতারণার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তিভুক্ত নদী-সংযুক্ত জলাশয় অবৈধভাবে ভরাট করে জলাশয় সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে সাইনবোর্ড টানিয়ে “এম্পায়ার গ্রুপ” নামে দীর্ঘদিন প্রতারণামূলক ব্যবসা পরিচালনার করে আসছে।
একাধিক জমির মালিক অভিযোগ করেন, সামান্য টাকার বিনিময়ে তাদের জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের অনুমতি নেওয়া হলেও পরে আর কোনো ভাড়া বা চুক্তির টাকা পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো সেই জমিকে নিজেদের প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত মালিকরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কৌশলে কৃষিজমিকে আবাসন প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ প্রকল্প এলাকায় নেই কোনো উন্নয়ন কাজ, রাস্তা, ড্রেনেজ কিংবা অবকাঠামোগত কার্যক্রম।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, “এম্পায়ার গ্রুপ” নামে কোনো অনুমোদিত আবাসন প্রকল্পের তথ্য তাদের নথিতে নেই। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে প্লট বিক্রি ও সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো আবাসন প্রকল্প পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে ক্রেতারা যেমন আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েন, তেমনি ভবিষ্যতে জমির মালিকানা ও রেজিস্ট্রেশন নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও ভূমি অফিসের অনুমোদন যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে “এম্পায়ার গ্রুপ”-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। নীরব অবস্থান আরও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
