আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থা যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের আস্থা নেই। তার ভাষায়, চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।
দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এমন মন্তব্য এসেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ইরানের এই অবস্থানের পরপরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকতে বলা হয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা বা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে ইসরায়েলের রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজারো মানুষ তার পদত্যাগ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের নীতির কারণে দেশ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
