• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

চট্টগ্রামে পৌঁছেছে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী আরও একটি ট্যাংকার

Byadmin

মার্চ ১১, ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে “লিয়ান হুয়ান হু” নামের আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে গত ১১ দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজের আগমন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে ট্যাংকারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে “শিউ চি” নামের আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। নতুন এই চালান দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে “এসপিটি থেমিস” নামের জাহাজটি আগামী ১২ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ১৩ মার্চ “র‍্যাফেলস সামুরাই” এবং ১৫ মার্চ “চাং হাং হং তু” নামের আরও দুটি ট্যাংকার বন্দরে আসবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে দেশে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল যুক্ত হবে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, নতুন আসা এই পাঁচটি ট্যাংকারের ডিজেল দিয়ে দেশের বর্তমান চাহিদার ভিত্তিতে অন্তত ১২ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মজুত নিশ্চিত করতে গত রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে।
সরকারের এই সাশ্রয়ী সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নতুন আসা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। ফলে নতুন চালান যুক্ত হওয়ার পর সব মিলিয়ে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণে আর কোনো শঙ্কা থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দ্রুততার সঙ্গে জ্বালানি খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তী জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছালে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বিপিসি কর্মকর্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় বাজারে যে কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights