বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উত্তর সাতলা মুড়িবাড়ি এলাকার সততা মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও উত্তেজনার পর অবশেষে ৫২ মন ৩৩ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেছেন প্রকৃত ভূমি মালিকরা। শুক্রবার সকালে শতাধিক ভূমি মালিক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর সাতলা মুড়িবাড়ি সততা মৎস্য ঘেরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। প্রকৃত ভূমি মালিকদের দাবি ছিল, সকলের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে যৌথভাবে মাছ চাষ পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে একাধিক বৈঠকেও ঐক্যবদ্ধভাবে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান তারা।
স্থানীয় আইয়ুব নুর, আতিয়ার হাওলাদার, জিয়াবুল মোল্লা, আশান মোল্লা, ইনুস বিশ্বাস, শাহাদাত বিশ্বাস, শহিদুল মিয়া ও শাহাবউদ্দিন মিয়ার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মাছ চাষ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক এককভাবে মাছ চাষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভূমি মালিকরা।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিন্টু মিয়াসহ জমির মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পর্চা নিয়ে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্যের শরণাপন্ন হন। এসময় সংসদ সদস্য সকলকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে মাছ চাষ পরিচালনার নির্দেশ দেন বলে জানান তারা।
কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ভূমি মালিকরা বলেন, সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম বিশ্বাস ভূমিহীনদের নিয়ে এককভাবে ওই ঘেরে মাছ চাষ করেছেন। এতে প্রকৃত জমির মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শুক্রবার সকালে সততা মৎস্য ঘেরের সভাপতি মোঃ মিন্টু মিয়ার নেতৃত্বে ৪৬৩ জন ভূমি মালিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ একত্রিত হন। পরে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৫২ মন ৩৩ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
এসময় ভূমি মালিকরা বলেন, তারা কোনো সংঘাত চান না। সকলের অধিকার নিশ্চিত করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘের পরিচালনা করতে চান। ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা দখলচেষ্টা না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

