• শুক্র. জুলাই ৩, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মালয়েশিয়ায় ময়লার ড্রাম্পারে মিললো প্রবাসীর লাশ

Byadmin

মে ৮, ২০২৬

আব্দুল আজিজ কুমিল্লা প্রতিনিধি:
সংসারের অভাব দূর করতে এবং পরিবারকে স্বচ্ছল জীবন উপহার দিতে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)।

স্বপ্ন ছিল স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শোকে পরিণত হয়েছে। দূর প্রবাসে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয়ে এখন কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
গত সোমবার (৪ মে) সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, কোনো কারণে হয়তো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরে লাশটি মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের পুলিশ মর্গে নেওয়া হয়।

নিহত রবিউল হাসান রবিন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, রবিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই খোকন বলেন, “আমার ছোট ভাই দীর্ঘ তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিল। সোমবার সকালে জানতে পারি সে নিখোঁজ। পরে শুনি, কেউ তাকে হত্যা করে ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রেখেছে। খবরটি শুনে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রবিনই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে মিহাদ হাসানের বয়স ১৫ বছর, মেয়ে রাইসার বয়স ৫ বছর এবং ছোট ছেলে রোহানের বয়স মাত্র ২ বছর। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই ভাবছি। আমরা চাই দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
স্বামীর মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার। তিনি জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রবিন মালয়েশিয়ায় যান। প্রথমে শাহআলম এলাকায় কাজ করলেও মাত্র ১৫ দিন আগে বুকিত জলিলে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন।
তিনি বলেন, “সোমবার সকালে জালাল ও সেন্টু নামের দুই ব্যক্তি ফোন করে জানায়, রবিন কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। পরে আমাদের এলাকার কয়েকজন প্রবাসী সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। তখন থেকেই আমরা সন্দেহ করি, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমার দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাবো? কীভাবে তাদের মানুষ করবো?”
নিহতের শ্বশুর মো. রশিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “১৫ দিন আগে বুকিত জলিলে গিয়ে রবিন শ্রমিকদের বেতন হিসাবের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”
তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমরা রবিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, প্রবাসে নিহত রবিনের লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তার পরিবার। বাড়ির আঙিনাজুড়ে এখন শুধুই শোক আর কান্নার মাতম। যে মানুষটি পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই মানুষটিই আজ ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে।

By admin

Editor And Publisher at Doinik Shirso Aparadh, Motijheel, Dhaka-1000.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights