• মে ১৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

২০০৮–এর পর প্রথম ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

Byadmin

ফেব্রু. ১৪, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো “বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক” হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। শনিবার রাজধানীর InterContinental Dhaka–এ আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মিশন প্রধান ইভারস ইয়াবস এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নবায়ন করা আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং মৌলিক স্বাধীনতা মোটামুটি বজায় রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং প্রচারণাবিধি প্রয়োগে অসামঞ্জস্য নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে মিশন বলেছে, যেকোনো ধরনের সহিংসতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি।

নারীর অংশগ্রহণ কম থাকাকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ৪ শতাংশ প্রার্থী নারী ছিলেন। পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইয়াবস। পাশাপাশি আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচন প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে মিশন জানায়, বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তবে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারদের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রবেশযোগ্য ছিল না।

ভোট গণনা ও ফল সংকলন মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হলেও কিছু ক্ষেত্রে অখণ্ডতা রক্ষার প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি এবং তিনটি ঘটনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে। তবুও দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি ও নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে জানায় মিশন।

অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে জানানো হয়, অন্তত ৩০টি ভুয়া তথ্যের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগ সক্রিয় থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক ধীর ছিল।

ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান টমাশ জদেচোভস্কি বলেন, দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। নতুন সংসদ ও সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করা ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের ২২৩ জন সদস্য ভোটের দিন দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করেন। ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষকরা যুক্ত ছিলেন। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights