
অনলাইন ডেস্ক:
আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে যেকোনো ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গত রবিবার (৩১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—কে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন তিনি।
তামাকজনিত ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি:
প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলের মতো পণ্যগুলো হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
পোস্টে ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’-এর তথ্য টেনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত নানা রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে।
আইন শক্তিশালীকরণ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা:
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৫ সালেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে এই আইনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- প্রচারণা নিষিদ্ধ: প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম এবং নাটক-সিনেমায় তামাকের যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তামাক কোম্পানিগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) আড়ালে প্রচারণাও বন্ধ করা হয়েছে।
- নির্দিষ্ট দূরত্বে বিক্রয় নিষিদ্ধ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।
- শাস্তি বৃদ্ধি: আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পোস্টের শেষাংশে নতুন বিধিবিধানগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি দিবসের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
