
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই ২০২৬
কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু তাদেরই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে একই কৌশলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কালিয়ানী গ্রামের দুই যুবক আলসাবা রাতুল ও শাকিল হোসেন অভিযোগ করেন, কানাডায় চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ৩৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে নেপালে নিয়ে একটি হোটেলে আটকে রেখে অতিরিক্ত আরও এক লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে কথিত কানাডার ভিসাসংবলিত পাসপোর্ট তুলে দেওয়া হলেও দেশে ফিরে অনলাইনে যাচাই করে তারা জানতে পারেন, ভিসাগুলো সম্পূর্ণ জাল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই গ্রামের নাসির উদ্দিন আলতাফ ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ঢাকায় একটি ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, এই চক্র ইতোমধ্যে শত শত মানুষের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আলসাবা রাতুল জানান, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তাকে নেপালে নিয়ে গিয়ে কানাডার দূতাবাস পরিচয়ে একটি স্থানে ইন্টারভিউ ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় নেপালে নিয়ে গিয়ে প্রায় দুই মাস একটি হোটেলে আটকে রাখা হয় এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এরপর ভিসাসংবলিত পাসপোর্ট দিয়ে অভিযুক্ত আলতাফ কুয়েতে চলে যান। দেশে ফিরে অনলাইনে যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন যে, ভিসাটি ভুয়া।
রাতুলের বাবা আবু সায়েম বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জমি বন্ধক রেখে এবং সুদে টাকা এনে ১৯ লাখ টাকা দিয়েছেন। এখন সুদের বোঝা টানতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন শাকিল হোসেনের বাবা হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, অভিযুক্ত আলতাফ তার আপন ফুফাতো ভাই। আত্মীয়ের কথায় বিশ্বাস করে দোকান, জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করে সাত দফায় ১৯ লাখ টাকা দিয়েছেন। এখন তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে বিচার দাবি করছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আলতাফ। তিনি দাবি করেন, দেওয়া ভিসা বৈধ ছিল এবং ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, দুই যুবকের কাছ থেকে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মতো নিয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, কানাডায় পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি জানান, মানবপাচার ও প্রতারণাকারী চক্রগুলো গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সব চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
