
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা জোরদারে একটি নতুন সামুদ্রিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সৌদি আরবকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলেও নির্দিষ্ট শহর বা অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। এর প্রভাবে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরব দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে অধিকাংশ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সৌদি তেলের একটি বড় অংশ বাব এল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের মুখোমুখি ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। লোহিত সাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম; অন্য প্রধান পথটি হলো সুয়েজ খাল।
মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রস্থের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ হওয়ায় বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল নির্দিষ্ট রুটে সীমাবদ্ধ। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা সংকট বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
