শেখ ফরিদ উদ্দিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর Tarique Rahman-এর নেতৃত্বে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে দলটির কেন্দ্রীয় নারী নেত্রীদের পাশাপাশি কুমিল্লা অঞ্চলের নেত্রীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অবদান রাখা নেত্রীদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, অতীতের ত্যাগ ও আন্দোলনে ভূমিকার মূল্যায়ন করে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন করা হবে। ইতোমধ্যে কুমিল্লা থেকে সম্ভাব্য অনেক নারী নেত্রী মন্ত্রী ও এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯ নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
১. অ্যাডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন (হেনা), কুমিল্লা শহর
বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এর আগে ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন শেষে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকা বারের সদস্য হিসেবে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-র বিভিন্ন মামলায় আইনি সহায়তা কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
২. শামীমা আক্তার রুবি, মুরাদনগর
তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ফ্রান্স মহিলা দলের সহ-সভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবনে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তাঁর লেখা “মুক্তি চাই” গানটি দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়।
৩. শাহনাজ আক্তার, লাকসাম
গুম হওয়া লাকসাম পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবির পারভেজের সহধর্মিণী শাহনাজ আক্তার ২০১৫ সালে লাকসাম পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি লাকসাম পৌর বিএনপির সহসভাপতি ও বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি। স্বামীর গুম হওয়ার পর থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
৪. সাকিনা বেগম, কুমিল্লা দক্ষিণ
তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।
৫. শামসুন্নাহার সেলিনা (দাউদকান্দি)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিজ্ঞানে এমএসসি এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জনকারী এই নেত্রী কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখায় তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
৬. দিলারা শিরীন, মেঘনা
মেঘনা উপজেলা পরিষদের তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের সংগঠিত করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি পরিচিত।
৭. সামিরা আজিম দোলা, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ
কুমিল্লা-৯ আসনের সাবেক এমপি মরহুম কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিমের কন্যা। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও পরে দলের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
৮. সুফিয়া আক্তার, দেবিদ্বার
তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি এবং দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।
৯. অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমান, বরুড়া
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার সময় তাঁর গাড়িবহরের প্রটোকলে নারী বাইক রাইডার হিসেবে আলোচনায় আসেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক Mostak Mia বলেন, অনেকের নাম আলোচনায় রয়েছে এবং তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেত্রীরাই এ ক্ষেত্রে মূল্যায়িত হবেন।
