কাজল:
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার কিংবা অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা হাদিউল ইসলামের মেয়ে ফারিহা (১৬) স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। একই এলাকার আবিদ (২১) নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ফারিহাকে মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একাধিকবার পারিবারিকভাবে নিষেধ করা হলেও আবিদ তার এই আচরণ বন্ধ করেনি, বরং অপহরণের হুমকিও দিয়ে আসছিল।
ঘটনাটি গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল নাটকীয় ও সহিংস মোড় নেয়। ১৪ এপ্রিল সকাল আটটার দিকে ফারিহা মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের চাপে পরদিন ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও সুমিতসহ প্রায় ১০ জন নামধারী এবং আরও ২৫-৩০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাদিউল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙে ফারিহাকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে আনে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পুনরায় ফারিহাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাণভয়ে কিছুই করতে পারিনি। চোখের সামনে থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গেল। ৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনও আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাইনি।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ফারিহাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রধান ভুক্তভোগী ফারিহা (১৬), প্রধান অভিযুক্ত আবিদ (২১) ও সুমিত, এবং বাদী হাদিউল ইসলাম। ঘটনাস্থল মাওনা ফায়ার সার্ভিস এলাকা ও ভুক্তভোগীর নিজ বাড়ি, শ্রীপুর, গাজীপুর। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপহরণ, শ্লীলতাহানি, হামলা, মারধর এবং লুটপাট।
পুলিশের আশ্বাস সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়েও কিশোরী উদ্ধার না হওয়ায় পরিবারজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
