নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান । তিনি বলেছেন, জনগণের রায়ে অর্জিত এই বিজয়ের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর InterContinental Dhaka-এ আয়োজিত নির্বাচনোত্তর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এ বিজয় শুধু একটি দলের নয়, এটি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের বিজয়। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে—এখন সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার সময়।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে অর্জিত এ সাফল্য যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। “আমাদের আচরণ হতে হবে সংযত ও দায়িত্বশীল। যেকোনও মূল্যে শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানান।
দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা”—উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন । নির্বাচনে আসনসংখ্যা নিয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের একমাত্র কৌশল ছিল জনগণের সমর্থন অর্জন করা। “মানুষের মন জয় করাই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি,” বলেন তিনি।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের স্বার্থই হবে সর্বাগ্রে বিবেচ্য, পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে এক বিদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আইনের শাসনের আলোকে বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব সহ দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।
