• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মোটর যান পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।

Byadmin

সেপ্টে. ২২, ২০২৫

সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্ট :
দিনাজপুর বিআরটিএ অফিসে কর্মরত মো: সফিকুল ইসলাম মোটর যান পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সেবা গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করা হয় এবং ঘুষ ছাড়া কোনো প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট বা নথি দেওয়া হয় না।
ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা প্রদান করেন না। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট, গাড়ি নিবন্ধনসহ সব নথি ইস্যু করতে ঘুষ নেওয়া বাধ্যতামূলক করে রেখেছেন ।
ঘুষের নির্দিষ্ট রেট -বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদা আলাদা ঘুষ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে ফিটনেস নবায়ন, লাইসেন্স নবায়ন, রেজিস্ট্রেশনে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সফিকুল ইসলাম শুধু ঘুষ নয়,সে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হয়রানি করে।
একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী জানায়“আমি প্রথমবার লাইসেন্স করতে আসি। সব ফি জমা দেওয়ার পরও দালাল এসে বলল, ২,৫০০ টাকা দিতে হবে, না হলে রিপোর্টে ফেল দেখানো হবে। এভাবে জোর করে টাকা আদায় করছে দিনাজপুর BRTA।
এই সফিকুল ইসলাম সরাসরি কাজ না করে তার নিজস্ব লোকের কাছে পাঠিয়ে দেন। আর তার পোষ্য লোকজন বা দালালদের কাছে টাকা না দিলে আবার ফাইল আটকে রাখা হয়। কখনো কখনো অফিসে ঘুরে ঘুরে মানুষ এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দেয়।আবেদনকারীদের ফাইল আটকে রাখা হয়, দাপ্তরিক নিয়ম ভঙ্গ করে জটিলতা তৈরি করা হয়, যাতে বাধ্য হয়ে মানুষকে ঘুষ দিতে হয়।ঘুষ না দিলে আবেদনকারীদের ঘুরতে ঘুরতে হয়রানির শিকার হতে হয়, কখনো কখনো মাসের পর মাস সেবা মেলে না।ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের জন্য অফিসিয়াল ফি ছাড়াও ২,০০০–৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন । ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে আনুমানিক ৫,০০০–১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ঘুষ নেওয়া।রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্র দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য “গোপন ফি” ধার্য করেন এই সফিকুল ইসলাম সিন্ডিকেট। নিয়মিতভাবে মধ্যস্বত্বভোগী/দালালের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো কাগজপত্র হোক, টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচ তলায় BRTA অফিস অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু সেবা পাওয়ার পরিবর্তে মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে। প্রতিটি কাজেই দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয়, আর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা ঘুস দিতে।
দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ এ পরিস্থিতিতে চরম ক্ষুব্ধ। এই দুনীতিবাজ সফিকুল ইসলামের বিচার চায় তারা। কিন্তু অসহায়ত্বের কারণে কেউ সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। কারণ, সিন্ডিকেটটি এতটাই শক্তিশালী যে, কেউ মুখ খুললে তার কাজ আরও জটিল হয়ে যায়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ!
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় দুর্নীতি ও হয়রানি প্রতিদিন চললেও প্রশাসন কেন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না? জেলা প্রশাসকের অফিসের নিচেই যখন এমন অনিয়ম চলছে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন চোখ বন্ধ করে আছে?
দিনাজপুর BRTA অফিস বর্তমানে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছে। ঘুষ, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও দালাল সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ ভীষণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। এই দুর্নীতিবাজ সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনোই যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে জনগণের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। অভিযোগ কারী দুদকে অভিযোগ করবে বলে প্রতিবেদকে জানায়।
সফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলে প্রথমে সে অস্বীকার করে সে দিনাজপুর BRTA কমকর্তা নয় বলে ফোন টি কেটে দেয়। কিছুক্ষণ পর ফোন দিয়ে বলে আমি সফিকুল ইসলাম দিনাজপুর BRTA এর মোটরযান পরিদর্শক এবং প্রতিবেদকে টাকা অফার করে। প্রতিবেদক তার টাকা দিকে নজর না দিয়ে ভুক্তভোগীর কথা মাথায় রেখে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। চলবে……

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights