সোহেল রানা:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নজর এড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে অবৈধ ঘাট পয়েন্টে সার ও অন্যান্য মালামাল ওঠানামার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে চোরাচালান বাণিজ্য।
বৈধ ইজারাদার সাইদুর রহমান জানান, তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত নিয়মে রাজস্ব প্রদান করে সার ও মাছ ঘাটের ইজারা নিয়েছেন। অথচ একটি প্রভাবশালী মহল বাদিং চার্জ ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ঘাট থেকে সার ওঠানামা করছে, ফলে বৈধ ইজারাদার ও রাষ্ট্র—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাইদুর রহমান এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ও বন্দর ও পরিবহন পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি জানান, “কৃষি মন্ত্রণালয় ৩০% সার নারায়ণগঞ্জ মোকামে সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও অবৈধ ঘাটের কারণে সরকারের কোষাগারে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।”
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মুক্তারপুর ও ফতুল্লা মাজারঘাট (মোকাররম সরদার নিয়ন্ত্রিত) ঘাট দিয়ে অবৈধভাবে সার ওঠানামা হচ্ছে। এসব ঘাটের কোনো হিসাব বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে নেই, ফলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি আমদানিকারকরা চট্টগ্রাম (৩%), নারায়ণগঞ্জ (৩০%), নগরবাড়ি (৩৫%) ও নোয়াপাড়া (৩২%) মোকামে সার সংরক্ষণের কথা থাকলেও বাস্তবে এসবের বাইরে অবৈধ পয়েন্টে সার ওঠানামা চলছে। প্রশাসনের নীরবতায় এই অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
তাদের দাবি—“নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সার ও মাছ ঘাট সরকারি রাজস্বের প্রধান উৎস। অথচ অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ ঘাট তৈরি করে সরকারের আয় হ্রাস করছে। অবিলম্বে এসব অবৈধ ঘাট পয়েন্ট বাতিল করে বৈধ ঘাটে ওঠানামা নিশ্চিত করতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সার ঘাট আজ প্রভাবশালী মহলের দখলে, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব লুটে রাষ্ট্র ক্ষতির মুখে—আর প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্ন তুলছে দায়বদ্ধতা নিয়ে।
অনুসন্ধান চলবে…
