
সোহেল রানা :
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) — দেশের নৌপথ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সম্প্রতি এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) মো. আতাহার আলী সরদারের নাম। ঠিকাদার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মেরিন শাখায় কাজ পেতে হলে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এই কর্মকর্তা।
একই পদে দীর্ঘ সময়, নিয়ন্ত্রণ একক হাতে
সূত্রগুলো বলছে, মো. আতাহার আলী সরদার দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এক পদে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে তার অধীনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা কার্যত কাজ বন্টন, দরপত্র ব্যবস্থাপনা ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে।
পদোন্নতির পরও তাঁর প্রভাব কমেনি, বরং বেড়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
একাধিক ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে কোনো কাজ পেতে হলে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়েছে। বড় প্রকল্পে এই হার নাকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্তও গড়িয়েছে।
এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“কমিশন না দিলে টেন্ডার দিলেও লাভ হয় না। কাজ তো পাই-ই না, বরং ফাইল আটকে রাখা হয়। এমনকি বিল তুলতেও ঘুষ দিতে হয়।”
ই-জিপি নিয়েও প্রশ্ন
সরকারি ই-জিপি (Electronic Government Procurement) ব্যবস্থা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য চালু হলেও, অনেকের অভিযোগ — এই ব্যবস্থাকেও সিন্ডিকেটের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়:
- নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে টেন্ডারের গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়
- দরপত্র আহ্বানের আগেই ঠিক হয় কে কাজ পাবে
- প্রতিযোগিতার নামে কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।এতে প্রকৃত যোগ্য ও সৎ ঠিকাদাররা বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অস্বীকারে নীরবতা
এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী সরদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। পরবর্তীতে প্রতিবেদকের নম্বর ব্লক করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের দাবি
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিগত বছরের অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও অর্থনৈতিক দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তারা যৌথ বাহিনী বা দুর্নীতি দমন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সচেতন মহল।
