কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় একই দিনে শিশুদের ওপর ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার পৃথক দুটি জঘন্য ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা দুটির মধ্যে একটির অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলেও অন্য ঘটনার মূল আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড় কালিকাপুর গ্রামে। সেখানে ৬ বছর বয়সী এক শিশু সমবয়সী বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের বাগানে খেলছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী গাছি হারুনুর রশিদ কলা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং ওই শিশুকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটি যন্ত্রণায় কাঁদলে গাছ কাটার কাটালি (দা) দেখিয়ে মুখ না খোলার হুমকি দেয় সে।
নির্যাতনের পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে কান্না করতে থাকলে তার বড় বোন ও মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। গুরুতর জখম অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদের বাড়ি মূলত লাকসামের খিলা এলাকায় হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে বড় কালিকাপুরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকত। এই জঘন্য ঘটনার পর তার নিজের ছেলেও পিতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার পর বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামি হারুন পলাতক রয়েছে।
অন্য এক পৃথক ঘটনায়, উপজেলার উত্তর শীলমুড়ি ইউনিয়নে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা ৮ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের (ধর্ষণচেষ্টা) অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দোকানি ওদুদ মিয়ার বিরুদ্ধে। সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওদুদ মিয়াকে আটক করে।
এ বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ও তদন্ত ওসি সঞ্জয় সরকার জানান, শীলমুড়ি ইউনিয়নের ঘটনায় অভিযুক্ত ওদুদ মিয়াকে আটক করে বুধবার (৩ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামি হারুনুর রশিদকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
একই দিনে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় পুরো বরুড়াজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
