সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি | ৫ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যাত্রীবাহী বাসের নির্মম চাপায় একটি অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে বেলকুচি-এনায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মেঘুল্লা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরবেলা এনায়েতপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোভ্যানকে সরাসরি চাপা দেয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই অটোভ্যানের তিন যাত্রী প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন স্বামী ও স্ত্রী রয়েছেন বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর ইমাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার পর বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- যানবাহন চলাচল স্বাভাবিককরণ: দুর্ঘটনার পরপরই সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোভ্যানটি সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
- আহতদের চিকিৎসা: দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অপর যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- আইনি পদক্ষেপ ও চালক শনাক্তকরণ: ঘাতক বাসটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় বেলকুচি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ভোরবেলার এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবং মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
