• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি পদ নিয়ে বিতর্ক

Byadmin

এপ্রিল ৬, ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক কর্মকর্তাকে ওই পদে বসানোর চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রেডেশন তালিকায় শীর্ষে থাকা ড. মো. আবু সুফিয়ান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি এই পদে নিয়োগ পান। সাবেক ডিজি ডা. মোহাম্মদ রিয়াজুল হক জসিম অবসরে গেলে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহাজাহান খান তুহিন ডিজি পদে নিয়োগ পেতে তৎপর হয়ে ওঠেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী সামগ্রী ও অর্থ বিতরণের ঘটনায় তুহিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তিনি প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলে যোগাযোগ বাড়িয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির শুরু করেন।
অভিযোগ আছে, তুহিনের নেতৃত্বে অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যারা বর্তমান ডিজিকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রচারণা চালায়। এর মাধ্যমে বর্তমান ডিজিকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালক পদে পদোন্নতির সময় তুহিন মির্জা আজম-এর সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে তাকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ডিজি পদের আরেক দাবিদার, বর্তমান পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বয়জার রহমান দাবি করেছেন, পদটি শূন্য হলে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তিনিই এ দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য।
সূত্র মতে, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক ঠিকাদার তুহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। অভিযোগগুলো এখনো প্রতিমন্ত্রীর টেবিলে পড়ে আছে এবং এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়নি বলে জানা গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমান গ্রেডেশন অনুযায়ী, ডিজি পদে তুহিন একজন জুনিয়র কর্মকর্তা। তার উপরে আরও ২০-২২ জন সিনিয়র কর্মকর্তা রয়েছেন। তারপরও তাকে পদে বসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেশে এখন প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে পদায়ন হওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তা বিস্ময়ের কিছু হবে না।
উল্লেখ্য, তুহিনের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে অধিদপ্তরের জাতীয়তাবাদী ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights