• মঙ্গল. জুলা ২১, ২০২৬

ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শের প্রতীক জহিরুল হক সিকদারকে বিদায় দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

ByShirso aparadh

জুলা ২০, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবেদিতপ্রাণ নেতা, ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী ও কর্মীবান্ধব ব্যক্তিত্ব মরহুম জহিরুল হক সিকদার-এর বিদায় দিবস আজ। এ উপলক্ষে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রামের নানা অধ্যায় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জহিরুল হক সিকদার দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা স্মরণ করেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

পরিবার ও দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ১/১১-পরবর্তী ফখরুদ্দীন আহমেদ ও মইন উদ্দিন আহমেদের শাসনামলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।

সহকর্মীদের মতে, জহিরুল হক সিকদার ছিলেন একজন সাদাসিধে, সৎ ও কর্মীবান্ধব নেতা। দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর নেতৃত্বগুণ, সাহসিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি এলাকায় একজন গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিদায় দিবস উপলক্ষে তাঁর কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ সময় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

বিদায় দিবসে এক আবেগঘন বার্তায় এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল বলেন, “জহিরুল হক সিকদার ছিলেন ত্যাগ, সততা ও আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দল ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আদর্শকে ধারণ করেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাঁর অবদান বিএনপির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই দিনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাঁর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক বহন করার শক্তি দান করেন।”

মরহুম জহিরুল হক সিকদারের পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেছেন। তারা বলেন, একজন আদর্শবান ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন এবং তাঁর কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দোয়া:
হে আল্লাহ! আপনি মরহুম জহিরুল হক সিকদারকে ক্ষমা করুন। তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচায় পরিণত করুন। তাঁর কবরকে প্রশস্ত, নূরানী ও শান্তিময় করে দিন। তাঁর জীবনের সকল ত্যাগ, কষ্ট ও সংগ্রাম কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।

আমীন, ইয়া রাব্বুল আলামীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights