শাহদাত হোসেন সাকু:
কুমিল্লা জেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে জেলার দাউদকান্দি উপজেলা ও বুড়িচং উপজেলা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
দাউদকান্দিতে অটোরিকশা চালক নিহত ২
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এর দাউদকান্দি অংশে দ্রুতগামী একটি অজ্ঞাত গাড়ি একটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই চালক নিহত হন।
নিহতরা হলেন—উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা উভয়েই পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।
এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনাটি ভোরে ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। ঘাতক গাড়িটি শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
বুড়িচংয়ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২
অন্যদিকে একই দিনে ভোরে নিমসার বাজার এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুই চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ ও আইনগত ব্যবস্থা
পুলিশ ধারণা করছে, অতিরিক্ত গতি, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ভোরের কুয়াশা—এই দুর্ঘটনাগুলোর অন্যতম কারণ হতে পারে।
দুই ঘটনাতেই আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্ত ও জব্দে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালের দিকে ভারী যানবাহনের চাপ, অতিরিক্ত গতি ও চালকদের অসতর্কতার কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা মহাসড়কে নজরদারি বাড়ানো, গতিনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
