• মে ১৮, ২০২৬ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ছোট ভাইকে উদ্ধার করতে যেয়ে বড় ভাই হারালেন নিজের প্রান

Byadmin

সেপ্টে. ১৫, ২০২৪

সাভার প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছোট ভাইকে আটকে রেখেছে এমন খবর শুনে বড় ভাই তাকে বাঁচাতে গেলে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে খুন হয় বড় ভাই।

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গিয়াস উদ্দিন। এর আগে, শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর কাঁঠালবাগান বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
নিহত সুলাইমান (১৮) নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ডেন্ডাবর কাঠালবাগান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থেকে আব্দুল্লাহ আল রাহাত ফেব্রিক্স নামের একটি কারখানায় কাজ করতেন। 

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকালে কয়েকজন মিলে কাঁঠালবাগান এলাকার বালুর মাঠে খেলা করছিল। সেখানে সেলিম নামেরও একজন ছিল। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে সেলিমকে মারধর করে আটকে রাখে কয়েকজন। বিষয়টি জানতে পেরে সেলিমের বড় ভাই সুলাইমান কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেখানে যান।

এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে সুলাইমানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, সন্ধ্যা বেলা ছোট ছেলে সেলিমকে মারধর করেছে এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্য আরিফ, রিয়ান, সজীব, জীবন, সুহান, রাজন, জিতু পারভেজ, ইয়াছিন, তামিম, কাউছার, আমিন ও অপূর্বসহ আরো বেশ কয়েজন। খবর পেয়ে বড় ছেলে সুলাইমান সেখানে যায়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে সুলাইমানের ওপরও হামলা চালায়। হামলায় সে মারা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে বাসার পাশে একটি কারখানায় কাজ করতো। কোনো ধরনের আড্ডা ও গ্যাং এর সাথে জড়িত ছিল না। তারা কোনো কারণ ছাড়াই সুলাইমানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং দোষীদের ফাঁসি চাই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং ছিল না বললেই চলে। তবে কিছুদিন ধরে আবার তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, মরদেহ ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কে কে জড়িত তাদের কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। অপরাধীদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

By admin

Editor And Publisher at Doinik Shirso Aparadh, Motijheel, Dhaka-1000.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights