সাইফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো দেশ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর ঢাকা-১৭ ও উত্তরাঞ্চলের বগুড়া-৬ (সদর)—উভয় আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন-পর্ব পেরিয়ে এবার তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছেন—এমনটাই দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, দুটি আসনেই বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে—হাতপাখা প্রতীকের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ: ২,৫০৮ ভোট
বাসদের দিলরুবা নুরী (মই প্রতীক): ২৭৬ ভোট
জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা প্রতীক): ২৭৬ ভোট
তবে এই ফলাফলে পোস্টাল ব্যালটের ভোট অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ জন ভোটার, যা মোট ভোটারের ৭১.০৩ শতাংশ—উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা-১৭ তেও জয়ের ধারা
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৭ তেও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিজয় নিশ্চিত করেছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত বিজয় কেবল সাংগঠনিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নির্বাসন কাটিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এই জয়কে বিএনপি নেতাকর্মীরা “গণরায়ের বিপ্লব” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বিএনপি।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হলে সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।
✨ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রূপকথা
একসময় যিনি ছিলেন দেশের বাইরে, সেই নেতাই আজ দুই আসনে বিজয়ী হয়ে সরকারপ্রধান হওয়ার পথে—এ যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়।রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—নতুন নেতৃত্বে কেমন হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ? সময়ের অপেক্ষা। 🇧🇩
