• বুধ. জুলাই ৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

গুলিস্তানে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মার্কেট দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

ByShirso aparadh

জুলাই ৭, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী পরিচয়ে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ জুলাই) মার্কেটের একাংশের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন এই মার্কেটের নিচতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. কামরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে গেলে আলী হাসান সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তিনি অভিযোগ করেন, এরপর থেকে ওই গ্রুপ চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ওয়াসা বিলের ২৮ লাখ টাকা এবং লিফট মেরামতের নামে আদায় করা প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এদিকে রোববার ফুলবাড়ীয়া এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পুলিশ জানায়, ওই মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে কামরুজ্জামান দাবি করেন, শান্তি মিছিলের নামে বাইরে থেকে লোক এনে হকিস্টিক বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে দোকান মালিক ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২-এ বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের দখলদারি কিংবা চাঁদাবাজি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মামুন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।

অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে আলী হাসান সুমন জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন এবং ফুলবাড়ীয়া মার্কেটভিত্তিক জামায়াতের একটি কমিটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করা হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলী হাসান সুমন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এ সংবাদ সম্মেলনের জবাবে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে সব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হবে। যিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন, তিনি পাশের মার্কেটের লোক। এই মার্কেটের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক কমিশনারের লোক। তাদের আনা সব অভিযোগই মিথ্যা। আমরা আমাদের কাছে থাকা সব প্রমাণ প্রকাশ করব।”

সংবাদ সম্মেলনে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মো. কিবরিয়া সাধীন, মো. কবীর হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. কাউসার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights