নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। দক্ষিণ প্লাজা প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। দলীয় পতাকা, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের ছড়াছড়ি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন টেকনোক্র্যাট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ১৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রীদের সবাই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রথম নির্বাহী দায়িত্বে যুক্ত হলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ‘সংস্কার ও স্থিতিশীলতা’কে সামনে রেখে সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শপথ নিলেন এমপিরাও
এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের বিজয়ী প্রার্থীরাও শপথ গ্রহণ করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় সরকার গঠনকে দলটি ‘গণরায়ের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।
নতুন এই অধ্যায়ে দেশের রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসে—এখন সেদিকেই নজর সবার।
