
শেখ ফরিদ উদ্দিন
দেশজুড়ে বীজ ও সার ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে মনিটরিং করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। সরকার নির্ধারিত ভর্তুকিমূল্যে কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে সার সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
১০ হাজার ডিলারের ওপর নিবিড় নজরদারি:
বর্তমানে সারা দেশে বিএডিসির প্রায় ১০,০০০ অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার রয়েছে, যারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকে। এই বিশাল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে জেলা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারের সরবরাহ, উত্তোলন, গুদামজাতকরণ, মজুদ এবং সার্বিক বিক্রয় কার্যক্রম কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
মাঠ কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও জবাবদিহিতা:
বিএডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত যুগ্মপরিচালক (সার/বীজ বিপণন) এবং উপপরিচালকগণ সরাসরি ডিলারদের দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশনা রয়েছে জরুরি পত্রে :
ডিলাররা দৈনিক বিক্রয় রেজিস্টার হালনাগাদ করছেন কিনা।
কৃষকদের সঠিক বিক্রয় রশিদ প্রদান করা হচ্ছে কিনা এবং রশিদে চাষিদের স্বাক্ষর/টিপসই ও মোবাইল নম্বর রাখা হচ্ছে কিনা।
ডিলারের নিজস্ব মজুদ রেজিস্টার অনুযায়ী গুদামে প্রকৃত সার মজুদ আছে কিনা।
ডিলার নিজে কিংবা তার নিযুক্ত কর্মচারী দ্বারা বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে কিনা।
দিতে হবে নিয়মিত প্রতিবেদন
শুধু পরিদর্শনই নয়, নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুযায়ী ডিলারদের তথ্য, সার উত্তোলন ও বরাদ্দের পরিমাণ এবং কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ রয়েছে কিনা—তা বিস্তারিত উল্লেখ করে নিয়মিত প্রতিবেদন বিএডিসির সদর কার্যালয়ে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।
কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ এই নন-ইউরিয়া সার (টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি) যেন কোনোভাবেই কালোবাজারে না যায় বা কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্যই প্রশাসন ও বিএডিসি এই কড়া নজরদারির ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে।
