নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি যেন দেশে ফিরে মামলার মুখোমুখি হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা ও মিছিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরাও তো তাকে ফেরত চাই, তবে সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।”
এসময় রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত প্রতিটি বড় অপরাধে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ভাবে কাজ করছে, আর ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও তদন্তের মাধ্যমে ‘রি-অ্যাকটিভ’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্তেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তনু হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা চলছে এবং আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন ও রাজধানীর মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বিশেষ চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইড পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকায় অভিযানে শতাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনে আইন যুগোপযোগী করা হবে। তবে আবেগের বশে দ্রুত আইন প্রণয়ন বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
