• মে ২২, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ব্রাইট স্কুলে চেয়ারম্যানের ‘গালিগালাজে’ ছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ByShirso aparadh

মে ২২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় অবস্থিত ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন এবং পরে তার মাকে স্কুলে আসতে বলেন। এর জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি সহপাঠীদের।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বুধবার (২০ মে) দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নেন চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে ওই ছাত্রী ক্লাসে আর ফিরে না গিয়ে বাসায় চলে যায়।

এদিকে, সাবিকুনের মাকেও ফোন করে স্কুলে যেতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে মা মেয়েকে বকাঝকা করলে বিকেলে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দেয় সাবিকুন নাহার।

সাবিকুনের এক সহপাঠী দাবি করেন, “সে পরীক্ষায় নকল করেনি, কাউকে দেখেও লেখেনি। অকারণে তাকে অপমান করা হয়েছে। এমন অপমানের পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “চেয়ারম্যান লিটন প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেন। তার কথামতো না চললে ডেকে বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দেওয়ার ভয়ও দেখান।”

শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।”

নিহত সাবিকুন নাহারের বাবা খলিলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। পরিবারসহ তারা দনিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি জেনেছি। পরিবার বা সহপাঠীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights