• রবি. জুন ১৪, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কার্গো ভিলেজে বারবার অগ্নিকাণ্ড: দুর্ঘটনা, গাফিলতি নাকি নাশকতা?

BySaiful

জুন ৭, ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নির্মাণগত ত্রুটি, দায়িত্বে অবহেলা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা—কোন কারণে এসব ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে ছুটির দিনে একই সংবেদনশীল এলাকায় দুইবার আগুন লাগার ঘটনায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগে। এতে ডিএইচএল কুরিয়ারের একটি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুড়ে যাওয়া কনটেইনারে কাপড়ের রোল, কাগজ, রাবার ও প্লাস্টিকজাত বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষিত ছিল। এসব পণ্য রোববার নিলামে তোলার কথা ছিল। নিলামের আগেই কনটেইনারে আগুন লাগার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএইচএলের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।অন্যদিকে, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বারবার শর্টসার্কিটই কারণ হয়ে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথাও না কোথাও ঘাটতি রয়েছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগুন লাগার স্থানটি সিসিটিভি নজরদারির বাইরে ছিল। ঘটনাস্থলের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও কিছু তার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে, যদিও ওই এলাকায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শর্টসার্কিট হলে সাধারণত স্পার্কিং বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের মতো কিছু আলামত থাকার কথা। কিন্তু এমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ফলে আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগুন লাগার সময় কাছাকাছি স্থানে ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর কিছু সময় তিনি ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে অন্যদের বিষয়টি জানান। তদন্তকারীরা তার আচরণও খতিয়ে দেখছেন।উল্লেখ্য, গত বছরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ না হওয়ায় একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বারবার ছুটির দিনেই কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের মতে, ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমানও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার শুক্র ও শনিবারের ছুটির দিনগুলোতেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

By Saiful

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights