বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামে একটি খাল ভরাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশের একটি প্রাকৃতিক খাল মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে এবং একটি কালভার্টের নিচে বাধ দিয়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
খাল ভরাট ও পানি প্রবাহে বাধার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডহরপাড়া গ্রামের মহাসড়ক সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে মাটি ফেলে খাল ভরাট করার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের কালভার্টের নিচে বাধ তৈরি করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
এলাকাবাসীর মতে, খালটি ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে—
- কৃষিজমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে
- ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে
- বসতবাড়িতে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে
- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
পরিবেশগত ঝুঁকি
পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক খাল বা জলাধার ভরাট করা হলে এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রত্যাশা
স্থানীয়রা আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে খাল পুনরুদ্ধার ও অবৈধ ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
আইনগত দৃষ্টিকোণ
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক জলাধার, খাল ও নদী ভরাট অনেক ক্ষেত্রে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
উজিরপুরের ডহরপাড়া গ্রামের খাল ভরাটের অভিযোগ এখন স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সঠিক তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব কৃষি, পরিবেশ এবং জনজীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

