নিজস্ব প্রতিবেদক || মধুপুর
কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে এনেস্থেসিয়ালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে ডা. তারেকুল ইসলাম তারেকের বিরুদ্ধে। তার সরকারি কর্মস্থল খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও তিনি সেখানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে অন্য জেলায় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ডা. মো. তারেকুল ইসলাম তারেক ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) হিসেবে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনিয়মিত এবং দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর তাকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয় বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলির পরও তিনি নতুন কর্মস্থলে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ না করে মধুপুর ও ধনবাড়ী এলাকায় ফিরে এসে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত অপারেশন থিয়েটারে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন ক্লিনিকে তার উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ক্লিনিকে একই দিনে অস্ত্রোপচারের সময় তিনি এনেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি অপারেশন শেষ হওয়ার আগেই অন্য ক্লিনিকে চলে যান। এতে অনেক সময় অপারেশন টিমকে চাপের মধ্যে পড়তে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। সকাল ১০টা থেকে রাত পর্যন্ত তার এই ব্যস্ততা চলে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একাধিক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে অজ্ঞানের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। মধুপুরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের সময় তাকে প্রায়ই দেখা যায়। এতে সরকারি কর্মস্থলে তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মধুপুরের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অস্ত্রোপচারে ডা. তারেকুল ইসলাম নিয়মিতভাবে এনেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন। তার উপস্থিতি প্রায়ই থাকে এবং তিনি একাধিক ক্লিনিকে কাজ করেন বলে তারা জানেন।
এ বিষয়ে ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, তার কর্মস্থল দূরে থাকায় মাঝে মাঝে তিনি অনুপস্থিত থাকেন এবং বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনুতোষ চাকমা জানান, যোগদানের পর থেকেই ডা. তারেকুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। মাসে খুব অল্প কয়েকদিন তিনি অফিসে আসেন এবং বেশিরভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এমন অনিয়ম ও অনুপস্থিতি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

