• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ঝালকাঠি রাজাপুরে সরকারি খাল দখল নিয়ে উত্তেজনা, অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ প্রশাসনেরঝালকাঠি রাজাপুরে সরকারি খাল দখল নিয়ে উত্তেজনা, অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ প্রশাসনের

বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল খালেক হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে নির্মাণ কাজের চিত্র

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারসংলগ্ন খালের ভেতরে রড দিয়ে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের দখল প্রবণতা

স্থানীয়রা জানান, কাঁচারিবাড়ী বাজার এলাকায় আগে থেকেই একাধিক ব্যক্তি খালের অংশ দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আব্দুল খালেক হাওলাদারও খালের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এতে খাল ভরাট হয়ে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও বাজার কমিটি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল খালেক হাওলাদারের মেয়ের জামাই বিএনপি নেতা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম এবং বাজার কমিটির কিছু নেতার যোগসাজশে এই নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। তবে বাজার কমিটির সেক্রেটারি মো. লিটন হাওলাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে থেকেই খালের পাড় ঘেঁষে দোকান নির্মাণ থাকায় নতুন নির্মাণও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

অভিযোগকারীর বক্তব্য

আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, তার নির্মাণাধীন ভবনের কিছু অংশ খালের মধ্যে পড়েছে। তবে এটি তার নিজস্ব জমিতে নির্মিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। সরকারি জমি প্রমাণিত হলে তিনি নির্মাণ ভেঙে ফেলবেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রশাসনের নির্দেশ ও স্থানীয়দের দাবি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানিয়েছেন, সরকারি খাল দখল করে নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইতোমধ্যে নির্মিত পিলার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন, না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও কৃষি সংকট তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights