বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। এক মা তার মাত্র তিন মাস বয়সী অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে রেখে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পরিচয়হীন ওই শিশুটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের সন্ধানে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল চারটার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক নারী তার অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালের মেঝেতে অন্য এক রোগীর পাশে শুইয়ে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। প্রথমে উপস্থিত কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও কিছুক্ষণ পর দেখা যায় শিশুটির পাশে কোনো স্বজন নেই। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও আশপাশ এলাকায় ওই নারীর খোঁজ শুরু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঠেকাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স আল মামুন জানান, শিশুটির কোনো পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং তার সঙ্গে থাকা কোনো আত্মীয়-স্বজনেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেইন বেলন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, শিশুটির সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা এবং পরিবারের সন্ধান পেতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তার পূর্ণাঙ্গ দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের সন্ধানে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন একটি মানবিক ঘটনায় দ্রুত শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করে তাকে নিরাপদ আশ্রয় ও যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

