বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মামা ও ভাগ্নের এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের স্বার্থ এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে তারা নিজেদের অর্থায়নে ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল ও রকেট’ নামে একটি প্রকল্পে কাজ করে সাড়া ফেলেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা প্রিতম পাল ও তার মামা সুজন চন্দ্র পাল প্রায় ছয় মাস আগে এই প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। প্রিতম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সুজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই তাদের এই যৌথ উদ্যোগের সূচনা।
প্রিতম পালের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিজেদের টিফিনের টাকা সঞ্চয় করে এবং পরিবারের সহায়তায় ২০২৫ সালের শেষ দিকে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টায় প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় করে তারা প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। সীমিত সম্পদ নিয়েও তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
সুজন চন্দ্র পাল জানান, তাদের তৈরি করা মিসাইল ও রকেট প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম বলে তারা দাবি করছেন। তবে সরকারি অনুমতি ছাড়া তারা এটি পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপ বা উড্ডয়ন করাতে পারছেন না। এ কারণে বিষয়টি এখনো গবেষণা পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তাদের সম্পর্কে আরও জানা যায়, দুজনই দীর্ঘদিন ধরে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করছেন। এই আগ্রহের কারণে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ডও পেয়েছেন। পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও তারা সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন, যা তাদের দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
প্রিতম পালের অর্জনের তালিকাও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক পান। এছাড়া মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায়ে বর্ষসেরা মেধাবী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্মার্ট সিটি ও রোবটিক্স নিয়ে তার কাজ ইতোমধ্যে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে, সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে একটি বিশেষ রোবট তৈরি করেন, যা আগুন বা গ্যাস লিকেজের সময় সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। এই উদ্ভাবনের জন্য ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও এই সাফল্যে গর্বিত এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা তাদের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। শিক্ষকেরা মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

