• রবি. আগ ৩০, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা: নেপালে মৃত ৬২৬, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

ByShirso Aparadh

আগ ২৯, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। একই দুর্যোগে তিব্বতে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে কমপক্ষে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীদের কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধান করতে দেখা যায়। তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে বারবার ‘কেউ আছেন?’ বলে ডাক দেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার অভিযান এবং নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি পথ, খাড়া ঢাল এবং প্রবল স্রোতের নদী পার হয়ে তিব্বতের দুর্যোগকবলিত গিরং বন্দরে পৌঁছায়।

লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে। পুরোনো সীমান্ত গেটের আশপাশের এলাকা ঘন কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে।

নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ ছিল গিরং বন্দর। স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে, ধসের ফলে তৈরি হওয়া হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বাড়ছে বলে চীনা গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে নতুন করে কাদা ও ভূমিধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নেপালে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন নেপালের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights