
সাব্বির আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যে সব অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও প্রায় একই পথে এগোচ্ছে। শুধু দলের নাম পরিবর্তিত হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ের কাজের ধরন একই রয়ে গেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে খুলনার তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তেরখাদা উপজেলা আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি নাহিদ হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা মুহা. এমরান হুসাইন, নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সাধারণ মানুষ তার পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়েও সেই একই অভিযোগগুলো পুনরায় ফিরে আসছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ খারাপ—এই স্লোগান তুলে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু যে যে দোষে তাদের বিদায় করা হয়েছিল, দেশ প্রায় সেই একই লাইনে ধাবিত হচ্ছে।’
সরকারের মেয়াদকাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছয় মাস বা ১৮০ দিন সময়কে খুব একটা সংক্ষিপ্ত সময় বলা চলে না। ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যেই সরকারের কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নাম অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সংঘাত ও অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আলোচনায় সাংবিধানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, একই আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং গণভোটের রায়কে আংশিক গ্রহণ বা বর্জন করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংবিধান সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন অর্জন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
