
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সাবেক সদস্য এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, শুল্ক ও কর সংক্রান্ত অনিয়মের সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে তিনি দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনি জটিলতা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সম্ভাব্য অনুসন্ধান এড়াতে শহিদুল ইসলাম স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ও ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন। তবে তার বিদেশযাত্রার প্রকৃত কারণ এবং তিনি স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ করেছেন কি না—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চাকরি জীবনে শহিদুল ইসলাম শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য এবং ঢাকার পশ্চিম জোনের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন আমদানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা এবং শুল্ক-কর সংক্রান্ত ছাড় পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ অর্জন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের রায় এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের অভিযোগ
শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে ‘শেল কবিতা’ নামে ১০ তলা একটি ভবন রয়েছে, যেখানে প্রতি ফ্লোরে দুটি করে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটির জমিসহ বর্তমান বাজারমূল্য শত কোটি টাকার কাছাকাছি বলে স্থানীয় ফ্ল্যাট ব্যবসায়ীদের দাবি।
এ ছাড়া বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে শহিদুল ইসলামের নামে দুটি ফ্ল্যাট, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় এবং নিউমার্কেট এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক দোকান রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে শেয়ারবাজারে একটি বিও হিসাবে বিপুল বিনিয়োগ এবং একটি ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ থাকারও অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বড় ছেলে হাসিন ফারহানের ব্যবসার জন্য বসুন্ধরার জেসিএক্স বিজনেস টাওয়ারে একটি অফিস এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য কয়েক কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে সম্পদের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলামের দুই ছেলে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষ করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাদের নামে কানাডায় দুটি বাড়ি এবং অস্ট্রেলিয়ায় আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুবাইয়ে স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, হুন্ডির মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
তবে বিদেশে থাকা সম্পত্তি, ব্যবসা এবং অর্থপাচারের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক রেকর্ড, ব্যাংকিং তথ্য এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
স্বজনদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
শহিদুল ইসলামের ভাই সেলিমের নামে চট্টগ্রামে দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পাইয়ে দিতে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব লাইসেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমস এলাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।
তার আরেক ভাই জাকিরের নামেও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
