• মঙ্গল. আগ ১৮, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

ডিএমসিবি নিয়ে প্রশ্ন: আমানত, লাইসেন্স ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ

ByShirso Aparadh

জুন ২৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

‘দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক’ (ডিএমসিবি) নামের একটি সমবায়ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে “ব্যাংক” পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, আমানত সংগ্রহে অনিয়ম হয়েছে কি না এবং গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনের আওতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন জেলায় শাখা বিস্তার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কাছে জমা রাখা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে কিছু গ্রাহক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করে বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে, ডিএমসিবির আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আমানত সংগ্রহ এবং অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কিছু বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সমবায়ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং সদস্যদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা বা বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ডিএমসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত ও আর্থিক নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights