• রবি. জুন ১৪, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিমদের পাশে ‘সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ’: মাংস বিতরণ ও বিশেষ দোয়া

ByShirso aparadh

মে ৩১, ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত নওমুসলিম পরিবারগুলোর মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে অনন্য এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে দেশপ্রেমিক সংগঠন ‘সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ’। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে গরু কোরবানি করে প্রায় ৭০টি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

​গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং শনিবার বেলা ১২টায় রামগড় উপজেলার তৈছালা পাড়ায় এ কোরবানি ও মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

​রাষ্ট্রীয় অবহেলার শিকার পাহাড়ের নওমুসলিমরা

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। তিনি তাঁর বক্তব্যে পাহাড়ের নওমুসলিমদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে বলেন,

​”পাহাড়ে বসবাসরত অধিকাংশ নওমুসলিম পরিবার দিনমজুর, কাঠুরিয়া ও সাধারণ শ্রমজীবী। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য যেমন তাদের নেই, তেমনি দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে সামাজিকভাবে বিতরণ হওয়া মাংস থেকেও তারা বঞ্চিত হন। ফলে তাদের ঈদের আনন্দ সীমিত হয়ে পড়ে। সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ তাদের এই কষ্টের দিনে পাশে দাঁড়ানোর একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছে মাত্র।”

​তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন,

“শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে পাহাড়ের নওমুসলিমরা চরম অবহেলার শিকার। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নওমুসলিমদের জন্য দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে জীবনমান উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

​বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান

​অনুষ্ঠানে রামগড়ের বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আলম বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বহু পরিবার মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দাতা সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে এই অসহায় মানুষগুলোর জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

​বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি জাগ্রত করে।”

​আনন্দিত সুবিধাভোগী ও বিশেষ মোনাজাত

​বছরের বিশেষ এই দিনে কোরবানির মাংস হাতে পেয়ে নওমুসলিম পরিবারগুলোর সদস্যদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও সন্তুষ্টি দেখা যায়। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, এই সহযোগিতা তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

​অনুষ্ঠান শেষে দেশবাসী, মুসলিম উম্মাহ, দাতা সদস্য এবং নওমুসলিম পরিবারের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি দেশের শান্তি, সম্প্রীতি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

​এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, জাফর তালুকদার, মাওলানা ইছহাক আলী, মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন, এস. এম. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

​সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও নওমুসলিম পরিবারগুলোর কল্যাণে তাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights