আব্দুল আজিজ কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাসের মানিককান্দিতে কাতার প্রবাসী আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া হত্যায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
৩১মে রবিবার সকাল ১১টার দিকে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় এলাকাবাসী এ মানববন্ধনে শেষে ঝাড়ু ও জুতা হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে আব্দুল লতিফ ভূঁইয়ার স্ত্রী আমেনা আক্তার বলেন, প্রকাশ্যে আমার স্বামীকে হ*ত্যা করা হয়েছে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলেরা ও তাহার গুন্ডাবাহিনী। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অটোগ্যারেজের ভিতরে টেনে-হিচড়ে নিয়ে বড় হাতুরি দিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলে, কাচি দিয়ে চামড়া কেটে কেটে রক্তাক্ত করে, রানদা দিয়ে পায়ের রগগুলো কেটে ফেলে। আমি ও আমার বোন আয়েশা খবর পেয়ে গ্যারেজের সামনে গিয়ে দেখি আমার স্বামী গোঙ্গানি দিচ্ছে। তখনো আবু মোল্লার সন্তাসীরা তার হাতে অস্ত্র দিয়ে ছবি তুলতেছে এবং দেহের উপর লাথি মারতেছে। আমার স্বামীকে হাসপাতালে নেয়া তো দূরের কথা; জড়িয়ে ধরে কান্নাও করতে দেয় নাই।
এক সময় পুলিশ ও মানুষজন কাছাকাছি এলে তারা মেরে চলে যায়। আমার স্বামী একে একে সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গেছে এবং কারা মেরেছে সকলের নামও বলে গেছে।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূঁইয়ার ছোট ভাই মামুন বলেন, আমার ভাইকে মেরে অস্ত্র দিয়ে নাটক সাজায়, পুলিশ রাতারাতি সেই মামলা নিলেও আমার ভাইকে হত্যার ঘটনায় মামলা নিয়ে তালবাহানা শুরু করে ৬দিন পর মামলা নেয়। কিন্তু এতদিনেও কোন আসামকে তারা আটক করেনি। উল্টো গ্রামবাসী আসামী ধরে দিলে পুলিশ সেই আসামী ছেড়ে দেয়।
আমি প্রশাসন ও দেশবাসির কাছে আমার ভাই হত্যার বিচার চাই-জড়িত সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।
নিহত লতিফ ভুঁইয়ার শালিকা আয়শা আক্তার বলেন: আমার ভাই আমাদের কাছে বলে গেছেন তাহার ভিডিও করে রেখেছি। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের যোগসাজসে ফাহিম মোল্লা, মোহাম্মদ আলী ও জাহাঙ্গীর মোল্লাসহ তাদের গ্রুপ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকান্ড ঘটায়। মৃত্যুর আগে স্বিকারোক্তির ভিডিও থাকা সত্তেও কেন পুলিশ নিরব রয়েছে এ নিয়েও সন্দেহ করেন তিনি।
মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম মেম্বার বলেন, আমরা মামলা করার পরও কেন আসামী ধরা হচ্ছে না? আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই। আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে যদি কোন আসামী ধরা না হয়, তাহলে সামনো কঠোর কর্মসূচী তিতাস থানান সামনে করবো।
উল্লেখ্য, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ১১মে সোমবার রাত ৯টার দিকে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে লতিফ ভূঁইয়াকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা কেটে ও এলোপাতারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ আবু মোল্লা গ্রুপের লোকজন। এ ঘটনায় তিতাস থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ ১৫দিনেও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
