নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাল বা ভুয়া সনদের অভিযোগে আরও ১৪১ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। এদের মধ্যে মাদ্রাসা পর্যায়ের ১১৪ জন, কলেজের ২৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষার ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।

রোববার পৃথকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এ নোটিশ জারি করে। নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতার সরকারি অনুদান) স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, কেন নিয়োগ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত করে এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করে। পরে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

ডিআইএর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে দুই ধাপে মোট ৭৩৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৪৭১ জনের তালিকা গত ১৬ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। ওই তালিকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

এ ছাড়া গত ২৭ এপ্রিল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের কাছে আরও ২৬২ জনের তথ্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিএড, বিপিএড ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সনদ ভুয়া বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।