কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ঘরে ডেকে নিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মসজিদ ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। লম্পট ওই শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
আটককৃত শিক্ষকের নাম মো. মাহবুব উল্লাহ। তিনি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার খালিশপুর গ্রামের মৃত শাহিদ আলীর ছেলে। মাহবুব উল্লাহ পশ্চিম তারাকান্দি মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের শিক্ষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
খাবার দিতে গিয়েই বিপত্তি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে পশ্চিম তারাকান্দি গ্রামের মৃত হান্নান মিয়ার সাত বছরের শিশু কন্যাটি শিক্ষক মাহবুব উল্লাহর জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে তার রুমে যায়। খাবার দিয়ে চলে আসার সময় মাহবুব উল্লাহ শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে নিজের ঘরে অবরুদ্ধ করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এ সময় ভয়ে ও যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুব উল্লাহকে হাতেনাতে ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার পর পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা কুলিয়ারচর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের হেফাজত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থানায় নিয়ে আসে।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান:
“খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মাহবুব উল্লাহকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুষ্ঠু তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ধর্মীয় শিক্ষকের এমন অনৈতিক ও বিকৃত আচরণে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
