আব্দুল আহাদ: কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রাম পুলিশের পোশাক ও সরঞ্জাম সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সর্বনিম্ন দরদাতাদের সক্ষমতা যাচাই না করেই তালিকার ৮ নম্বরে থাকা উচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘চাঁদনী জেনারেল স্টোর’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন টেন্ডারে অংশ নেওয়া একাধিক দরদাতা। একই সাথে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ১৬১৫ জন গ্রাম পুলিশের পোশাক ও সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার শাখার একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। উক্ত টেন্ডারে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।এর মধ্যে সর্বোচ্চ দর দাতা এস এম এন্টারপ্রাইজ -২,৫৯,৮৯,৮৫০ টাকা এবং সর্ব নিন্ম দরদাতা মেসার্স আখন্দ এন্টারপ্রাইজ – ১,৭৯,৭১,৭৫০ টাকা।চাঁদনী এন্টারপ্রাইজ অংশ নেয় ২,৩১,৩৪,০২৪ টাকা দর দাতা হিসেবে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮-এর বিধান অনুযায়ী, সাধারণত সর্বনিম্ন মূল্যায়নকারী সাড়াদানকারী (Lowest Evaluated Responsive Tenderer) প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। যদি কোনো কারণে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দেওয়া হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
তবে দরদাতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বনিম্ন দরদাতাদের পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা বা পণ্যের মান যাচাইয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়নি। আইন ও নিয়মকে তোয়াক্কা না করে রহস্যজনকভাবে তালিকার ৮ নম্বরে থাকা উচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ‘চাঁদনী জেনারেল স্টোর’-এর অনুকূলে কার্যাদেশ জারি করা হয়।
৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
টেন্ডারে অংশ নেওয়া একাধিক ক্ষুব্ধ দরদাতা দাবি করেছেন, টেন্ডার দাখিলের পর কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলে তারা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দরদাতা বলেন:”আমরা সরকারের অর্থ অপচয়ের বিরুদ্ধে ছিলাম। তাছাড়া অনৈতিকভাবে এত বড় অংকের অর্থ দেওয়াও আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়মের বাইরে গিয়ে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হলো।”
টেন্ডার প্রক্রিয়ার এই অনিয়ম ও চাঁদনী জেনারেল স্টোরকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার চেষ্টা যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব অপচয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
