শেখ ফরিদ উদ্দিনঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দিন ভুইয়া এবং বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনিরুজ্জামান ভুইয়াকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের আদেশ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভুইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভুইয়া।
তবে বহিষ্কারাদেশকে “অসাংবিধানিক” ও “ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ” বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত দুই নেতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জালাল উদ্দিন ভুইয়া ও মনিরুজ্জামান ভুইয়া বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে দলের পরীক্ষিত ও নিবেদিত কর্মী এবং কোনো ধরনের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত নন।
তাদের অভিযোগ, বহিষ্কারের আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ, সাংগঠনিক শুনানি কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে এই সিদ্ধান্ত বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ মে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান। এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দিন ভুইয়া।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দলীয় কোন্দলের জেরে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কি সরাসরি একজন সহসভাপতিকে বহিষ্কার করার সাংগঠনিক ক্ষমতা রাখেন, নাকি এ ক্ষেত্রে উচ্চতর কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভুইয়া প্রতিবেদককে বলেন, তিনি তখন ব্যাংকে অবস্থান করছিলেন এবং পরে বিস্তারিত জানাবেন। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
