নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর || গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবায় রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে জনসংখ্যা বেশি, কিন্তু সেই অনুপাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা স্তূপ আকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষকে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেও একই চিত্র দেখা যায়। মহাসড়কের দুই পাশজুড়ে ফেলে রাখা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বর্জ্য অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও অনেকটা দায়সারা বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদ শূন্য হয়ে পড়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায়। বিশাল আয়তনের এই পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লা-আবর্জনা এখন জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরমেক্স সড়ক, সফিপুর-বড়ইবাড়ী সড়ক এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জালাল গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের উপরেই ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব স্থানে বৃষ্টির পানি ও পচা ময়লা মিশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া হরিণহাটি ও সফিপুর বাজার এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে, যেখানে সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে রয়েছে।
খাড়াজোড়া উড়াল সেতুর পাশেও মহাসড়কের ধারে ময়লা ফেলার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আশপাশে হাইটেক সিটি, রেল স্টেশন ও বিভিন্ন দোকানপাট থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই দুর্গন্ধের মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। পথচারী সাইম বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ অনুচিত। দুর্গন্ধে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বাসের যাত্রী ও চালকরাও একই ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। বনশ্রী পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, মহাসড়কের ওই অংশে এলেই বাসের ভেতর বসে থাকা যায় না, অনেকে বমি করে ফেলেন। চালক মনির মিয়া বলেন, দুর্গন্ধের মধ্যে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

