সিলেট জেলা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন। এই কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করবেন। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা এবং জীবনযাত্রা-সংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হবে।
নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সিলেট শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং ভারী বর্ষণে তা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এ সমস্যা সমাধানে খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বন্যা মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি। বর্ষার পানি ধরে রাখতে পারলে তা কৃষি ও দৈনন্দিন ব্যবহারে কাজে লাগানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন।
নদী দূষণের বিষয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নদীতে জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বুড়িগঙ্গা নদীর বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশের অন্যান্য নদীর অবস্থাও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তুললে তা পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। এজন্য বিকল্প হিসেবে ঢাকা-সিলেট রেলপথ দ্রুত ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এর আগে সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর একটি ফ্লাইটে করে প্রধানমন্ত্রী ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
পরে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীর উন্নয়নে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
