• শুক্র. জুন ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

রাজনীতির ঊর্ধ্বে নাগরিক শোক: খালেদা জিয়ার স্মরণে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ব্যতিক্রমী শোকসভা

Byadmin

জানু. ১৭, ২০২৬

এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক শোকের এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়—আজ রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নাগরিক শোকসভা। এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসানে দেশবাসীর সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতিচ্ছবি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শোকসভা শুরুর কথা থাকলেও, তার আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে দক্ষিণ প্লাজা হয়ে ওঠে নীরব শোকের সমাবেশস্থল। আয়োজনের ধরনেই স্পষ্ট—এটি স্লোগান বা রাজনৈতিক বক্তৃতার মঞ্চ নয়, বরং স্মরণ, মূল্যায়ন ও আত্মমর্যাদার পরিবেশে শ্রদ্ধা জানানোর এক নাগরিক প্রয়াস।
এই শোকসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না—এ সিদ্ধান্তই আয়োজনটির ব্যতিক্রমী চরিত্রকে স্পষ্ট করেছে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা শোকবক্তব্য দেবেন। সভাপতিত্ব করছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।
এর আগে সপরিবারে শোকসভাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। তাঁদের উপস্থিতি শোকের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভা সম্পর্কে প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; এটি দেশবাসীর সম্মিলিত শোকের বহিঃপ্রকাশ।” সে লক্ষ্যেই অনুষ্ঠানকে গাম্ভীর্যপূর্ণ রাখতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা।
শোকের মর্যাদা রক্ষায় সভাস্থলে সেলফি তোলা, স্লোগান দেওয়া কিংবা হাততালি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না; সবাই নির্ধারিত আসনে বসেই অংশ নিচ্ছেন। আমন্ত্রণপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে—যা এ আয়োজনকে রাজনৈতিক জমায়েত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শোকের নাগরিক রূপ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করছে।
এই শোকসভা মনে করিয়ে দিচ্ছে—রাজনীতির বাইরে গিয়েও একটি জাতি তার নেত্রীকে স্মরণ করতে পারে নীরবতা, শালীনতা ও সম্মিলিত শ্রদ্ধার

By admin

Editor And Publisher at Doinik Shirso Aparadh, Motijheel, Dhaka-1000.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights