• শনি. আগ ২২, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়

ByShirso Aparadh

আগ ২২, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক অবস্থান, দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও মানুষের পারস্পরিক যাতায়াত—বিভিন্ন কারণে দুই দেশের সম্পর্কের প্রভাব সরাসরি পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। তাই রাজনৈতিক আবেগ বা সাময়িক বিরোধের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূলনীতি হলো—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এর পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি, যোগাযোগ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সম্পর্ক দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, সেই সম্পর্কই শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র পরিবর্তন করার সুযোগ কোনো দেশের নেই। ফলে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বহুমুখী পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে সম্পর্কের অবনতি হলে এর প্রভাব শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও তার প্রভাব পড়ে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের উত্থান-পতন হয়েছে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সম্পর্কের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে ভারত সফর এবং পরবর্তী সময়ে গঙ্গার পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব ছিল। ভারত ছাড়াও জাপান, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল সেই নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তাঁর ভারত সফর এবং ২০০৬ সালের সফরের পাশাপাশি ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর ভারত সফরও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই সফরে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সে সময় দল ও জোটের ভেতরে কিছু আপত্তি থাকলেও তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়ে সফরে যান।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে একই ধরনের একটি কূটনৈতিক পরীক্ষা রয়েছে। তাঁর সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখাই হতে পারে এই নীতির বাস্তব প্রতিফলন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিভিন্ন ক্ষেত্রে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে আলোচনায় এসেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, ভিসা, সীমান্ত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেয়। বিভিন্ন বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের কারণে পারস্পরিক আস্থার সংকটও তৈরি হয়।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রভাব বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়েছে। ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াতকারীরা সমস্যায় পড়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরাও চাপের মুখে পড়েছেন।

সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও অনুভূত হয়েছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবস্থা যখন অস্বস্তিকর হয়, তখন তার প্রভাব বিভিন্ন অরাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী সম্পর্ককে অযথা সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশে এসে শোক ও সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা জানানো এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। দীর্ঘদিনের সমস্যা ও মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন ভিত্তি পেতে পারে।

ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সুযোগও দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। জ্বালানি সংকটের সময় ভারত সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পোশাক ও উৎপাদন শিল্পে তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, রং, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের বাজার থেকে এসব পণ্য তুলনামূলক দ্রুত ও কম পরিবহন ব্যয়ে সংগ্রহ করা সম্ভব। সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দূরবর্তী দেশ থেকে আমদানি করতে গিয়ে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক, রেল, নৌপথ ও সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারতের বাজারের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের অবনতি হলে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পানিবণ্টন, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, ট্রানজিট ও নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একতরফা নির্ভরতার সম্পর্ক হিসেবে না দেখে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ যেমন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, চোরাচালান, মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। তাই নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো কার্যকর রাখা প্রয়োজন।

তবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের সব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একমত হতে হবে। সীমান্তে হত্যা, পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্য বৈষম্য, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বিধিনিষেধ কিংবা কোনো অসম চুক্তির প্রশ্নে বাংলাদেশকে নিজের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বন্ধুত্বের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই হওয়া উচিত কূটনীতির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে তাই ভারতকে বেছে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো শক্তিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়। বরং ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব অর্থও হলো—কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, আবার অপ্রয়োজনীয় বৈরিতাও নয়।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে যদি সরকার অতিরিক্ত ভারতবিরোধী অবস্থানের দিকে চলে যায়, তাহলে তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো একটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে; কিন্তু সেই বিরোধের কারণে সব ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সুফল নাও আনতে পারে।

ভারতবিরোধী অবস্থানকে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকিও রয়েছে। অতিরিক্ত সংঘাতমূলক নীতি রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিনিয়োগের পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো একটি পক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বিএনপি নিজেদের উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়। সে কারণে দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বাস্তববাদ, ভারসাম্য এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। ভারতের বিরোধিতা কতটা করা হলো—তা দিয়ে নয়, বরং বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা কার্যকরভাবে আদায় করা গেল, তার ভিত্তিতেই সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য মূল্যায়ন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির অভিজ্ঞতাকে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এগিয়ে নিতে পারেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সীমান্ত, পানির হিস্যা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব।

কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে মান-অভিমান বা জেদের কোনো স্থায়ী মূল্য নেই; রাষ্ট্রীয় স্বার্থই সেখানে প্রধান বিবেচ্য। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক আবেগের ভিত্তিতে নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশা করে, যেখানে কোনো দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থাকবে না, আবার অকারণ বৈরিতাও থাকবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে দেশের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে; সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না।

সবশেষে বলা যায়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ ও রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে তাই বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, কূটনৈতিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণের আলোকে বিবেচনা করতে হবে। আলোচনার টেবিলেই বাংলাদেশের দাবি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights